কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ এ ১২:৩২ PM
কন্টেন্ট: পাতা
এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম
নাগরিককেন্দ্রিক জনসেবা রূপান্তরের অগ্রযাত্রা
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের জনসেবা রূপান্তরের যাত্রায় এটুআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করে এটুআই সেবা নকশা, সরলীকরণ ও বাস্তবায়নে সহায়তা করছে, যাতে সরকারি সেবা আরও সহজ, দ্রুত, সহজলভ্য ও নাগরিকবান্ধব হয়।
২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আইসিটি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনডিপির সহায়তায় এটি ‘একসেস টু ইনফরমেশন’ বা এটুআই হিসেবে পুনর্গঠিত হয়। ২০২০ সালে এর নামকরণ করা হয় ‘এসপায়ার টু ইনোভেট’। শুরুতে আইসিটি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হলেও, সময়ের সঙ্গে এটুআই জনসেবা উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে এটুআই সেবার জটিলতা কমাতে, সেবা প্রদান পদ্ধতি উন্নত করতে এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা নাগরিকদের আরও কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে। এর মাধ্যমে জনপ্রশাসনে নাগরিকের প্রয়োজন, সময়, ব্যয় ও সুবিধাকে গুরুত্ব দিয়ে সেবা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের চর্চা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় এটুআই জনসেবা, বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সামাজিক সুরক্ষা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক সেবা চালু ও সম্প্রসারণে সহায়তা করেছে। জাতীয় তথ্য বাতায়ন, ডি-নথি, মাইগভ, ই-কোর্ট ও ডিজিটাল সেন্টারের মতো উদ্যোগের পাশাপাশি সেবা সরলীকরণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও নাগরিকের প্রবেশাধিকার বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
তবে এটুআইয়ের কাজ শুধু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি কাজের প্রক্রিয়া পুনর্গঠন, উদ্ভাবনী পদ্ধতির চর্চা, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে এটুআই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনসেবা পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়নের পদ্ধতি আরও কার্যকরভাবে ভাবতে সহায়তা করছে।
বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এটুআই টেকসই ও সামগ্রিক রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে কাজ করছে। নাগরিককেন্দ্রিক ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, জনসেবা ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবন প্রসার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে সহায়তা করাই এখন এটুআইয়ের অন্যতম অগ্রাধিকার।