কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫ এ ০৬:৩৪ PM
কন্টেন্ট: পাতা
সহজে, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি-বেসরকারি নানা সেবা পৌঁছে দিতে দেশব্যাপী ডিজিটাল সেন্টারের (তৎকালীন নাম ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র) কার্যক্রম শুরু হয়েছিলো। প্রাথমিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ-ভিত্তিক কাঠামোটি হলেও পরবর্তীতে পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডসহ বিশেষ এই ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ডেলিভারি আউটলেট হিসেবে ডিজিটাল সেন্টার কার্যক্রম বিস্তার লাভ করে। সারাদেশে বর্তমানে এই ডিজিটাল সেন্টারের সংখ্যা প্রায় ৯,৫০০। বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে ইউএনডিপি ও এটুআই-এর কারিগরি সহযোগিতায় ডিজিটাল সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এইসব ডিজিটাল সেন্টারসমূহে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাগরিক সেবা। এতে শহর থেকে শুরু করে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে নানা সেবা। নাগরিক জীবনে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।
ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে সেবা পৌঁছানোর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে দেশের সকল পৌরসভায় ‘পৌর ডিজিটাল সেন্টার’ এবং সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডে ‘নগর ডিজিটাল সেন্টার’, ২০১৬ সালে ‘উপজেলা পরিষদ ডিজিটাল সেন্টার’ ও ‘জেলা পরিষদ ডিজিটাল সেন্টার’, ২০১৮ সালে বিশেষ জনগোষ্ঠীর চাহিদার আলোকে স্পেশালাইজড ডিজিটাল সেন্টার ও প্রবাসীদের জন্য সৌদি আরবে ‘এক্সপ্যাট্রিয়েট ডিজিটাল সেন্টার’ ও ২০২৩ সালে একসেবা ডিজিটাল সেন্টার চালু করা হয়েছে।
সম্প্রতি ইউএনডিপির সহায়তায় বাংলাদেশের ডিজিটাল সেন্টার মডেলের আদলে ফিলিপাইনের বাংসোমারোতে ডিজিটাল সেন্টার রেপ্লিকেট হয়েছে।
- বর্তমানে, এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং - প্রান্তিক নাগরিকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণে বর্তমানে ৪,৭৬৩ টি ডিজিটাল সেন্টার থেকে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
- একসেবা উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জমির পর্চা, ই-নামজারি, পাসপোর্টের আবেদন ও ফি জমাদান, হজ্জ্ব প্রাক নিবন্ধন, পল্লী বিদ্যুৎ ফি প্রদান, বাস, রেল, লঞ্চ ও বিমানের টিকেটিং, স্ট্যাম্প ভেন্ডর লাইসেন্স আবেদন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, সরকারি সেবার ফরমসহ ৩৯০ এর অধিক বেশি সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে।
- প্রবাসীদের জন্য এক ঠিকানায় সকল সেবা নিয়ে ডিজিটাল সেন্টার-ভিত্তিক ‘প্রবাসী হেল্পডেস্ক’ এর কার্যক্রম চলমান আছে।
- কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের সেবা প্রদানের জন্য ২৪০টি উপজেলাতে ডিজিটাল সেন্টার ভিত্তিক 'স্মার্ট সিএমএসএমই হাব' পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
- সিএমএসএমই ‘সম্মৃদ্ধি’ পয়েন্ট থেকে উদ্যোক্তারা এক্সেস-টু-ফাইন্যান্স, এক্সেস-টু-মার্কেট, ব্যবসা সংক্রান্ত তথ্য ও পরামর্শ সেবা, ব্যবসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নথি তৈরি, ব্যবসার দক্ষতা উন্নয়নে আর্থিক ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এর দক্ষতা তৈরিসহ প্রাসঙ্গিক সকল সেবা সহজেই একত্রে নিতে পারছে।
- কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ডিজিটাল সেন্টার-ভিত্তিক স্কীলস ফিউশন সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উদ্যোক্তারা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে এলাকার বেকার শিক্ষিত যুবকদের আইসিটি ও বিভিন্ন ট্রেড কোর্সের প্রশিক্ষণ প্রদান করছে ও পরবর্তীতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে।