কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ০৪:৪০ PM
কন্টেন্ট: খবর প্রকাশের তারিখ: ১৬-০১-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ১৯-০১-২০২৮
ষাট গম্বুজ প্রত্নস্থল ও বাগেরহাট জাদুঘরে এটুআই মাইগভ ই-টিকিটিং সেবার উদ্বোধন
বাগেরহাট, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬: প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ প্রত্নস্থল ও বাগেরহাট জাদুঘরে এটুআই-এর মাইগভ ই-টিকিটিং সেবা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীদের জন্য সেবাটি উন্মুক্ত হয়, ফলে টিকিট কাটতে লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি কমবে এবং প্রবেশ প্রক্রিয়া হবে আরও দ্রুত ও সহজ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি নিজ মোবাইল ফোনে অনলাইনে টিকিট ক্রয় করে কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে প্রবেশ করে সেবাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই উদ্যোগ নাগরিকবান্ধব ডিজিটাল সেবাকে আরও এগিয়ে নেবে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াবে। নতুন বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে এটি একটি বাস্তব ও দৃশ্যমান অগ্রগতি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম, এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাঃ আব্দুর রফিক, হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম, সিনিয়র কনসালটেন্ট ও উপসচিব ফজলুল জাহিদ পাভেল, চিফ টেকনোলজি এডভাইজার মাসুদুর রহমান, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বিপিএমসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ প্রত্নস্থলে দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনায় একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করাও আমাদের অগ্রাধিকার।
এটুআই প্রকল্প পরিচালক মোহাঃ আব্দুর রফিক বলেন, সরকারি সেবা ডিজিটাল করার মূল লক্ষ্য নাগরিকের সময় ও দুর্ভোগ কমানো এবং সেবাকে আরও স্বচ্ছ করা। মাইগভ ই-টিকিটিং সেই লক্ষ্য পূরণে কার্যকর একটি প্ল্যাটফর্ম। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনলে পর্যটন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় মানোন্নয়ন হবে।
এটুআই-এর হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, ই-টিকিটিং শুধু টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ভিজিটর ম্যানেজমেন্ট সল্যুশন। পর্যায়ক্রমে আরও স্থাপনাকে যুক্ত করে একীভূত ও মানসম্মত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ৩০ জুন ২০২৫ লালবাগ দুর্গে মাইগভ ই-টিকিটিং চালুর পর গত ছয় মাসে প্রায় ৩ লাখের বেশি দর্শনার্থী প্রত্নস্থলটি পরিদর্শন করেছেন এবং এর মাধ্যমে সরকার প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। পর্যায়ক্রমে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীন আরও ২৮টি পর্যটন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাকে মাইগভ ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।