কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬ এ ১২:৩৪ PM

জুনে চালু হবে ই-হেলথ কার্ড: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কন্টেন্ট: খবর প্রকাশের তারিখ: ১১-০৩-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ৩১-০৩-২০৩০

জুনে চালু হবে ই-হেলথ কার্ড: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা, ১১ মার্চ ২০২৬: দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী, সমন্বিত ও কার্যকর করতে জাতীয় ই-হেলথ কার্ড আগামী জুনের মধ্যেই চালু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের সেবা জোরদারে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত উদ্যোগ হিসেবে এ কার্ড বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন।

বুধবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ই-হেলথ আইডি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি পর্যালোচনা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে আইসিটি বিভাগের এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ই-হেলথ কার্ড চালু হলে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা উপকৃত হবে। একজন রোগী গ্রাম থেকে শহরযেখানেই চিকিৎসা নিন না কেন, চিকিৎসক এই কার্ডের মাধ্যমে তার স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদানে আরও কার্যকরভাবে সহায়তা করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ই-হেলথ আইডি স্বাস্থ্যখাতে একটি মৌলিক পরিচয় কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তিকে নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং হাসপাতাল, ক্লিনিক ও অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য নিরাপদভাবে বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিএনপি সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগফ্যামিলি কার্ড, ই-হেলথ কার্ড ও ফারমারস কার্ডের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। বাকি দুই উদ্যোগের কাজও এগিয়ে চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, জুনের শেষ নাগাদ ই-হেলথ কার্ড চালু করা সম্ভব হবে।

কর্মশালার শেষ দিনে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী অধিবেশনে হেলথ আইডি, ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড (ইএমআর) এবং শেয়ারেবল হেলথ রেকর্ড (এসএইচআর) বাস্তবায়নের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। এছাড়া এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহা. আব্দুর রফিক, চিফ টেকনোলজি অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার মাহা আবু এমায়ের এবং এডিবির সিনিয়র হেলথ স্পেশালিস্ট রুই লিওসহ সরকারের জ্যেষ্ঠ নীতিনির্ধারক, স্বাস্থ্যখাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত ডিজিটাল হেলথ ইকোসিস্টেমে ইন্টারঅপারেবিলিটি বা আন্তঃকার্যকারিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা আরও দক্ষ, নির্ভুল ও সহজপ্রাপ্য হবে। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রোগীর তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে এবং সরকারি ও বেসরকারিউভয় স্বাস্থ্যব্যবস্থায় সেবার মান ও সমন্বয় আরও জোরদার হবে। সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী সুশাসন, উপাত্তের গোপনীয়তা সুরক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে তিনি আন্তঃকার্যকারিতা ও মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক মোহা. আব্দুর রফিক বলেন, এই কর্মশালা হেলথ আইডি ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণে বাস্তবভিত্তিক করণীয় নির্ধারণে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, এডিবির সিনিয়র হেলথ স্পেশালিস্ট রুই লিও বাংলাদেশের ডিজিটাল স্বাস্থ্য রূপান্তরে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ইএমআর ব্যবহারের বর্তমান অবস্থা, এসএইচআর-এর স্থাপত্য, এপিআই মানদণ্ড, আন্তঃকার্যকারিতা কাঠামো, গোপনীয়তা ও সম্মতি ব্যবস্থাপনা, এবং বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সংযুক্তির প্রস্তুতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও গভর্ন্যান্সসংক্রান্ত ঘাটতি চিহ্নিত করে জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন