Download Screen Reader

নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণে চালু হলো এটুআই-এর ‘সাথী’ নেটওয়ার্ক

4 September, 2022

Reading Time: 1 Minute

বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে এটুআই চালু করেছে ‘সাথী’ নামক একটি নেটওয়ার্ক। আজ ১৪ মার্চ ২০২২ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভো থিয়েটারে অনুষ্ঠিত নারী উদ্যোক্তা সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক এবং সিভিএফ প্রেসিডেন্সির বিশেষ দূত জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নেটওয়ার্ক উদ্বোধন করেন। নারী উদ্যোক্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জনাব আবু ফারাহ মোঃ নাসের এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ আরফান আলী এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার স্নিগ্ধা আলী। অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের সহযোগিতায় এটুআই প্রাথমিক পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টারের ১০০জন নারী উদ্যোক্তা নিয়ে এই নেটওয়ার্কের যাত্রা শুরু করেছে। পর্যায়ক্রমে এ নেটওয়ার্কের আওতায় দেশের সকল ইউনিয়নে একজন করে নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ কর্মসূচি পৌঁছে দিতে তথা প্রান্তিক জনগণের জন্য আর্থিক সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের দেশের যেসকল নারীগণ প্রয়োজনে বিভিন্ন ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা গ্রহণ করতে ঘরের বাইরে যাতায়াত করেন তাঁদের অধিকাংশই সেবা প্রদানকারী ব্যক্তি হিসেবে পুরুষের তুলনায় নারী হলে অধিক স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। নারী উদ্যোক্তাদের অধিকতর সক্রিয়করণের মাধ্যমে দেশের নারী জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবায় নিয়ে আসা, তাঁদের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও হাতের মুঠোয় তাঁদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা নিশ্চিতকরণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এসপায়ার টু ইনোভেট-এটুআই এর উদ্যোগে নারী উদ্যোক্তাদের এই নেটওয়ার্ক বেশকিছু কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। যেমন: নারী উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে দেশব্যাপী নারীবান্ধব আর্থিক এক্সেস পয়েন্ট তৈরি করা; উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে প্রান্তিক নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ; দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানো; ডিজিটাল সেন্টারের নারী উদ্যোক্তাদের অধিকতর সক্রিয়করণ এবং প্রান্তিক পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তা তৈরি।  

 

উল্লেখ্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর দেশের সকল ইউনিয়নে একযোগে ডিজিটাল সেন্টার (পূর্বের ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র) উদ্বোধন করেন। এটুআই-এর উদ্যোগে বর্তমানে বাংলাদেশে ৮৪০০-এর অধিক ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১৬০০০-এর অধিক উদ্যোক্তা জনগণের দোরগোড়ায় আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ডিজিটাল সেন্টার কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতে প্রতিটি ডিজিটাল সেন্টারে ০১ জন পুরুষ উদ্যোক্তার পাশাপাশি ০১ জন নারী উদ্যোক্তা কাজ করছেন।

 

ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে জনগণের দোরগোড়ায় বিভিন্ন সেবা নিশ্চিতকরণে নারী উদ্যোক্তাগণ অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। দীর্ঘ এক দশকেরও অধিক সময় যাবত তৃণমূল পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তাগণ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৃণমূল পর্যায়ের নাগরিকদের ব্যাংকিং সেবা, বিভিন্ন ধরনের সরকারি-বেসরকারি সেবা, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, টেলিমিডিসিন সেবা, ই-টিকেটিং ও ই-কমার্স সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত সরকারি এজেন্ডা বাস্তবায়নে নারী উদ্যোক্তাগণ অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। 

 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এটুআই-এর যুগ্ম-প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) নাহিদ সুলতানা মল্লিক, বাংলাদেশ ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার (এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস) জনাব মো. জাকীর হোসেন, বাংলাদেশের কান্ট্রি ইকোনোমিস্ট ড. নাজনীন আহমেদ এবং এটুআই-এর ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিষয়ক প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনাব তহুরুল হাসান এবং এটুআই-এর কর্মকর্তাগণ।


RELATED POSTS