আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২২ উদযাপন উপলক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অবদানের জন্য ৯ জনকে সম্মাননা প্রদান

4 September, 2022

Reading Time: 1 Minute

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২২ উদযাপন উপলক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৯ জন ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। আজ ০৮ মার্চ ২০২২ রাজধানীস্থ আইসিটি টাওয়ারে এসপায়ার টু ইনোভেট-এটুআই আয়োজিত আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বিজয়ী নারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-এর মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) জনাব জুয়েনা আজিজ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ-এর সিনিয়র সচিব জনাব এন এম জিয়াউল আলম পিএএ। আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) জনাব ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর।

 

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক তাঁর বক্তব্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারীবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করার ঘোষণা প্রদান করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৌলিক পরিবর্তন আনতে নারীদের সংসদে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা, নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব সহ নারীবান্ধব কার্যক্রম গ্রহণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, নারীর প্রতি সম্মান না থাকলে প্রগতিশীল সমাজ গঠন সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য জেন্ডার ইকুইটি নিশ্চিত করতে হবে।

 

জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার পাশাপাশি মায়ের নাম অন্তর্ভূক্তকরণ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নারীর প্রাধান্য নিশ্চিতকরণ করার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নে অনবদ্য অবদানের জন্য প্রতিমন্ত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এমন অসংখ্য উদ্যোগের কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে, যৌতুক প্রথা হ্রাস পেয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৪৩ জেলায় প্রযুক্তিনির্ভর নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কলসেন্টার, ফ্রীল্যান্সার, উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০% এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৫০% নারীর তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানান মাননীয় প্রতিমন্ত্রী।

 

জুয়েনা আজিজ বলেন, নারীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে যাতে সে সফল হতে পারে। ই-কমার্সসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তা বিশ্বাসভাজন তা ইতোমধ্যে প্রমাণিত। নারীদের প্রতি বিনিয়োগ জেন্ডার পেয়ারিটি অর্জনে সহায়ক হবে। ২০৪১ সালের উদ্ভাবনী বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারীদের উন্নয়নে বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা বাড়ানো প্রয়োজন। এবং হবে, নিরাপত্তায় কাজ করে যেতে হবে।

 

নারীর উন্নয়নে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম। কর্মপরিকল্পনায় নারীর ক্ষমতায়নকে আরো বেশি করে অন্তর্ভূক্তিকরণের ব্যাপারে অনুরোধ করেন। জেন্ডার সমতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রী নারীর বিভিন্ন সুযোগ সৃষ্টি ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।

 

ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশনে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ২টি ভিশন দিয়েছেন যা আমাদের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করবে। জেন্ডার সমতা আনয়নে তিনি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

 

উল্লেখ্য, ৯টি ক্যাটাগরিতে ৯ জন সম্মানিত নারী হচ্ছেন- কাউসার আক্তার তাহিন (নারী উদ্যোক্তা-ডিজিটাল সেন্টার), শিউলী আক্তার (ই-কমার্স), হোসনে আরা পারভিন (ই-লার্নিং), তাসলিমা বেগম (শিক্ষক বাতায়ন), মোসা. ফারহানা সাদিকা (কিশোর বাতায়ন), জাইমা জাহিন ওয়ারা (উদ্ভাবন), সাকেরা বানু (নারী উদ্যোক্তা-এসএমই), মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা (হেলথ টেকনোলজি) এবং তামান্না আক্তার নুরা (বিশেষ)।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এটুআই-এর যুগ্ম-প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) নাহিদ সুলতানা মল্লিক, এটুআই-এর পলিসি অ্যাডভাইজর জনাব আনীর চৌধুরী, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), বাংলাদেশের কান্ট্রি ইকোনোমিস্ট ড. নাজনীন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল, বাংলাদেশ বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের (এফএসপি কান্ট্রি টিম) প্রোগ্রাম অফিসার জনাব স্নিগ্ধা আলী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার ফারজানা মাহমুদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও এটুআই-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং গণমাধ্যমকর্মীগণ।


RELATED POSTS